fbpx

মার্কেটিং মানেই ক্রেতাদের সাইকোলজি বা মনস্তত্ব বুঝে কখন কোন কাজটি করতে হবে, সেটা সঠিকভাবে নিরূপণ করা। আর এই কাজটি অব্যর্থভাবে করতে ব্যবহৃত হয় আইডা মডেল।

চারটি জিনিসের সমন্বয় AIDA / আইডা মডেল গঠিত – 

১. A = অ্যাটেনশন ( মনোযোগ আকর্ষণ)

২. I = ইন্টারেস্ট (আগ্রহ সৃষ্টি)

৩. D = ডিজায়ার (কেনার বাসনা তৈরি)

৪. A = অ্যাকশন (পণ্য বা সেবা টি কিনে ফেলা বা অ্যাকশন গ্রহণ করা)

এই মডেলটি কাস্টমারদের বায়ার জার্নি বোঝাতে মার্কেটিংয়ে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে একজন কাস্টমার বা ভোক্তা যখন একটি পণ্য বা সেবা ক্রয় করে।

একজন ভোক্তা একটি পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে যে সমস্ত বিষয় বিবেচনায় আনে, সে বিষয়গুলোকে আমরা আইডা মডেল দ্বারা বিশ্লেষণ কিংবা ব্যাখ্যা করতে পারি।

আর এই মডেল মার্কেটারদের তাদের মার্কেটিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এবং সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।

 

  1. St Elon যিনি একজন বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্মরত ব্যক্তি ছিলেন, তিনি এই ধারণাকে খুব সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

“ কোনো বিজ্ঞাপনের মূল বিষয় হলো মানুষকে আকর্ষণ করা।”

 আবার এর কয়েকটি উদ্দেশ্য থাকে। যেমন –

১. যাতে মানুষ বিজ্ঞাপনটি দেখে এবং আগ্রহ সহকারে পড়তে শুরু করে।

২. বিজ্ঞাপনটি পড়ে সন্তুষ্ট বা মুগ্ধ হয়ে যায়।

৩. বিজ্ঞাপনের উপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেন।

আর যে বিজ্ঞাপনে এই তিনটি গুণাবলী বিদ্যমান সেটি একটি সফল বিজ্ঞাপন বলে ধরে নেওয়া যায়।

এড এবং মার্কেটিং এর জগতে যারা বিক্রয়ের সাথে জড়িত তারা সেলস ফানেল শব্দটি অনেক বেশি ব্যবহার করেন এবং এই সেলস ফানেল এর মধ্যে যে বিষয়গুলো চলে আসে সেগুলো হলো –

  1. Acquisition
  2. Activation
  3. Retention
  4. Revenue
  5. Referral

আমরা এখানে যে AIDA মডেল ব্যবহার করবো সেটি হলো, কিভাবে একজন সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে ধাপে ধাপে বিক্রি করার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। আর এই জন্য AIDA  মডেলকে সেলস ফানেল বলা হয়। এই সেলস ফানেল এর ধাপগুলি হলো –

  1. Attention
  2. Interest
  3. Desire
  4. Action

 

* Attention:

কাউকে কোনো কিছু বলা বা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করার ক্ষেত্রে সেই জিনিস সম্পর্কে মনোযোগ কিংবা আগ্রহ সৃষ্টি করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মনোযোগ আকর্ষণ করতে না পারলে আপনার কোনো কৌশল কাজে খাটবে না।  সেলস মার্কেটিং এ আপনার সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই মার্কেটারদেরকে এই জিনিসটি সতর্কভাবে লক্ষ রাখতে হয়।

 

* Interest (আগ্রহ / আকর্ষণ সৃষ্টি)

কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করার পরবর্তী ধাপ হলো তার প্রতি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করা। এটি করতে না পারলে আমাদের সকল কর্মকান্ড অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য একজন সেলস ম্যানকে ক্রেতার আগ্রহের প্রতি সব সময় লক্ষ্য রাখতে হয়।

 

* Desire (পাবার জন্য তীব্র বাসনা সৃষ্ট)

কোন কিছু সেলস করার ক্ষেত্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আগ্রহ সৃষ্টির পর বিক্রেতাকে এমন কিছু বলতে হবে বা কৌশল প্রয়োগ করতে হবে যাতে ক্রেতা মনে করে এই পণ্য বা সেবা গ্রহণ করতে না পারলে তার জীবন ব্যর্থ। ক্রেতার মধ্যে যদি একবার পণ্য কেনার বাসনা ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আজ না হয় কাল সে পণ্যটি অবশ্যই কিনবে।

 

* Action (কেনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ)

এই পর্যায়ে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ ক্রেতা সন্তুষ্ট হয়ে বা প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে পণ্য ক্রয় করে থাকে। এই ক্ষেত্রে বিক্রেতা বিক্রয়ের জন্য স্ট্যাটাস সিম্বল, পণ্য সংকট, ওয়ানলিওয়ান পিছ ইত্যাদি টেকনিক ব্যবহার করে থাকে।

 

তবে আইডা মডেল যে বিশ্বে একমাত্র কার্যকর বিজনেস মডেল এমনটি ভাবা কখনো উচিৎ নয়। কখনো কখনো এই মডেলও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়।

 

আইডা মডেল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আরো কিছু সংশ্লিষ্ট বিজনেস মডেলের আলোচনা প্রাসঙ্গিকভাবে চলে আসে। তেমনই একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় Ansoff Matrix । এই  ম্যাট্রিক্সকে প্রোডাক্ট/মার্কেট এক্সপানশন গ্রিডও বলে থাকে। এই ম্যাট্রিক্সকে বিজনেস ফার্ম টুলস হিসেবে ব্যবহার করে যাতে তারা কৌশলগত পদ্ধতি পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণে ব্যবহার করে থাকে।

 

এই ম্যাট্রিক্সটি ১৯৫৭ সালে হারভার্ড বিজনেস রিভিউতে প্রথম প্রকাশিত হয়। ব্যবসায়ের সম্প্রসারণের সাথে যে ঝুঁকি জড়িত সেটি বুঝাতে এই ম্যাট্রিক্সটি ব্যবহার করা হয়।

 

এই ম্যাট্রিক্সে ৪টি কৌশলগত বিষয়ের কথা উল্ল্যেখ আছে।

১. মার্কেট পেনিট্রেশন: প্রচলিত পণ্য দিয়ে যে বাজারে এগুলো চলে সেখানে বিক্রি বৃদ্ধি করা।

২. প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট: প্রচিলিত বাজারে নতুন পণ্য দিয়ে নিজেদের স্থান করে নেওয়া।

৩. মার্কেট ডেভেলপমেন্ট: নতুন মার্কেটে প্রচলিত পণ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা।

৪. ডাইভারসিভিকেশন: নতুন মার্কেটে নতুন পণ্য এনে বাজার ধরার চেষ্টা করা।

Leave a Comment