fbpx

বর্তমান সময়ের ব্যবসার কার্যকরি মডেল, ইনবাউন্ড মার্কেটিং।

 

ব্যবসা সম্পর্কে আমাদের ধারণা হলো ব্যবসায়ী হতে গেলে আমাদের খুবই নির্দয় হতে হবে এবং অসংকোচে সবকিছু প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায় সফল হতে গেলে আপনার কাস্টমারের ক্ষতি করে হলেও আপনাকে সেটা করতে হবে। এই ধারণা আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মাঝে বদ্ধমূল হয়ে আছে।

 

এমনকি বড় বড় অনেক কোম্পানির মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এই ধরনের চিন্তা বা কাজ আমাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ অনেক কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক লাভের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী সম্পর্ক এবং ব্যবসাকে নষ্ট করে ফেলেন।

 

কিন্তু, বর্তমান সময়ে ক্রেতাদের হাতেই ব্যবসার সমস্ত ক্ষমতা রয়েছে। কারণ ব্যবসা করার ধরন এখন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। কারণ এখন কাস্টমাররা আগের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা আপনার পণ্য সম্পর্কে, আপনার ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে এবং প্রতিযোগী সম্পর্কেও খুব ভালো ধারণা রাখে। তাই, আপনি যদি ক্রেতাদের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারেন তাহলে তারা কখনোই আপনার সঙ্গে থাকবে না।

 

ইনবাউন্ড মার্কেটিং হলো ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে মানবিক সম্পর্ক তৈরি মাধ্যমে ব্যবসা করা। একে অপরের খোঁজ-খবর রাখা, আপনজনের মতো। শুধু মুনাফা লাভের উৎস মনে করা হয় না ক্রেতাকে। আর যখন বিক্রেতা এমন মনোভাব নিয়ে ব্যবসা শুরু করে বা কাস্টমার ডিলিংস করে, তখন তার কোন প্রতিদ্বন্দী থাকে না।

 

ইনবাউন্ড মার্কেটিংয়ে সবসময় ব্যক্তি স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। ইনবাউন্ড হল মানুষকে নিজের মতো করে কেনাবেচা করতে দেওয়ার একটি ক্লিন মার্কেটিং সিস্টেম। এই সিস্টেমে কেউ কাউকে বিরক্ত করে ব্যবসায় লাভবান হতে পারে না।

ইনবাউন্ড মেথডকে কাজে লাগানোর জন্য মার্কেটাররা ওয়েবসাইট, বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মসহ নানা মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। তাই ইনবাউন্ডকে বলা হচ্ছে

“Better way to market and better way to sale. Better way to help your customer.”

কারণ এখানে কাস্টমারদের জন্য যেটি ভালো, সেটি আপনার ব্যবসার জন্যও ভালো। আমরা যদি এটি মনে রাখি, তাহলে আমাদের ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে ভালো করবে।

 

ইনবাউন্ডকে অন্যভাবে বলতে পারি, “নিজের জ্ঞান বিশ্বের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া”। এর মধ্যে রয়েছে –

১. অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করা

২. টার্গেট অডিয়েন্স এর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা

ইনবাউন্ড হলো নিজের জ্ঞানের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যের সেবা করা এবং নিজের মুনাফা বৃদ্ধি করা। আর এটা সম্ভব হয়, কাস্টমার বা প্রোসপেক্টকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে। কিন্তু তাই বলে বারবার কিনতে বলা বা তাদের জ্বালাতন করলে ফলাফল হিতের বিপরীত হতে পারে। তাই, ক্রেতারা কি নিয়ে চিন্তা করছে, কি ধরনের জিনিস কিনছে, সেটি নিয়ে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে।

 

ইনবাউন্ড মডেল থেকে সর্বোচ্চ লাভবান হতে গেলে ভোক্তার চিন্তা-চেতনা, কেনা-বেচার ধরন সম্পর্কে রিসার্চ করতে হবে। এর মানে হচ্ছে, ক্রেতাকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে খুশি করতে হবে, যতটা সে প্রত্যাশা করে তার চেয়ে বেশি। এজন্য ক্রেতারা যেখানে থাকবে তাদের সাথে সেখানে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। যেমন – ফেসবুক, লিঙ্কডিন, গুগল সার্চ, ইত্যাদি। 

 

ইনবাউন্ডকে বিজনেস স্ট্রাটেজির চেয়ে মেন্টাল সেট-আপ বললে ভুল হবে না। কারণ, ইনবাউন্ড পদ্ধতিতে  টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে আন্তরিকতা নিয়ে সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হয়, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান বা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আর এই মডেলের সিক্রেট হলো, আপনি যদি তাদের ভ্যালু দেন, তাদের সমস্যা সমাধান করেন, তাহলে তারাও শুধু আপনার কাছ থেকে পণ্য বা সেবা কিনতে চাইবে। 

আর এই কাজটি করতে হলে আপনাকে রাইট টাইমে, রাইট পিপল এর কাছে, রাইট প্লেসে, রাইট ইনফরমেশন পৌছে দিতে হবে। এটি যদি সঠিকভাবে করা যায় তাহলে আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, ক্রেতা আপনাকে খুঁজে বের করবে।

 

উদাহরণ হিসেবে অ্যামাজন কিংবা উবারের কথা বলা যায়। এদের বিজনেস মডেলটা খুবই চমৎকার। এদের সার্ভিস মডেল এক কথায় অসাধারণ। আর তারা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য সেবা প্রদানের সাথে সাথে খুব সুন্দরভাবে ডাটার ব্যবহার করছে। সেলস, সার্ভিস, আবার মার্কেটিং, এসব ক্ষেত্রে রিয়েল টাইম ডাটা ব্যবহার করছে।

 

সুতরাং এখন প্রশ্ন হলো আপনি কিভাবে ডাটা ম্যানুপুলেশন করবেন ?

 

বর্তমান সময়ে কাস্টমারদের বায়িং বিহেভিয়ার সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের ইনবাউন্ড মার্কেটিংয়ের টেকনিক্যাল পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

কিন্তু পরিবর্তন যাই হোক না কেন, ইনবাউন্ডের ফিলোসোফি এখনো অপরিবর্তিত রেখে গেছে। অর্থাৎ, মানুষকে আকৃষ্ট করে টেনে আপনার দিকে নিয়ে আসতে হবে। আর এতে দুই পক্ষেরই  ফায়দা বা লাভ থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে বিক্রেতাকে দেখতে হবে, পোটেনশিয়াল কাস্টমারদের সমস্যা কি এবং আমি এই সমস্যাকে কিভাবে সমাধান করতে পারি।

আর এটি ইনবাউন্ড বিজনেস স্ট্রাটেজির সমস্ত ধাপেই প্রযোজ্য। এজন্য আমরা হিউম্যান ফ্রেন্ডলি অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করতে হবে।এটা হতে পারে প্রবলেম সলভিং ব্লগপোস্ট, ফেসবুক পেজে পোস্ট, প্রোডাক্ট রিভিউ।

এছাড়া কাস্টমারকে ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদরকে মূল্যবান ভাবতে পারে। প্রত্যেক ব্যক্তিই আলাদা, সুতরাং প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে ট্রিট করতে হবে। আর এটি করলে তাদের বাইক জার্নি শুরু হয়ে যাবে আপনার কোম্পানির সাথে।

সুতরাং এটিই উপযুক্ত সময় কাস্টমারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার, যাতে তারা সব সময় আপনার ব্যবসার সাথে জুড়ে থাকতে পারে।

 

Leave a Comment