fbpx

 

বর্তমান প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে ক্যারিয়ারে উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সিভির উপর নির্ভর করে থাকা যায় না। আমরা পছন্দ করি কিংবা না করি, আমার সম্পর্কে চাকরিদাতা, ক্লায়েন্ট, কলিগ, ব্যবসায়িক পরিচিতজন, ম্যানেজার ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন উৎস থেকে আমাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

 

আপনার সম্পর্কে যে তথ্যগুলো সচরাচর পাওয়া যায় (ইন্টারনেটে বা লোকমুখে) সেগুলো যে আপনার পেশাদারিত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং সক্ষমতা সব সময় তুলে ধরছে ব্যাপারটি হয়তো তেমন নাও হতে পারে। এক কথায় বলা যায়, আপনি এখন আপনার নিজের ব্র্যান্ডের মার্কেটার। যেভাবে আপনি এই ব্র্যান্ডের দেখভাল করবেন, তার উপর নির্ভর করবে প্রতিযোগিতাময় ক্যারিয়ার মার্কেটপ্লেসে আপনার ভালো করা বা হারিয়ে যাওয়া।

 

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং কি?

 

সাধারণভাবে বলতে গেলে পার্সোনাল ব্র্যান্ড হলো প্রফেশনাল রেপুটেশন। এজন্য আপনার নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে কেমন হবে আপনার সাজ-পোশাক, অন্যের সাথে কমিউনিকেশন করার ধরন, ক্যারিয়ার এবং স্কিল সেট। আপনি সক্রিয়ভাবে আপনার ব্র্যান্ড ম্যানেজ করেন কিংবা নাই করেন, আপনি নিজের জন্য একটি পার্সোনাল ব্র্যান্ড ঠিক করে ফেলেছেন।

 

পার্সোনাল ব্র্যান্ড যে যে সুবিধা দেয়:

 

– বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করে

– নতুন চাকরির সুযোগকে আকৃষ্ট করে

– অনলাইন প্রভাব বৃদ্ধি করে

– প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করে

– কাজ এবং ক্যারিয়ারকে নিরাপদ করে

 

অ্যাকশন ১: নিজেকে গুগল করুন

 

মানুষ আপনার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিবে আপনার অনলাইন প্রেজেন্সের উপর ভিত্তি করে। কোনো জিনিসের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ণয়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো সেই সম্পর্কে গুগল সার্চ করা।

সুতরাং আপনি আপনার নাম দিয়ে গুগল সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন কি রেজাল্ট আসছে আপনার সম্পর্কে।

নিজেকে গুগল করার চেকলিস্ট:

– গুগল সার্চে আপনার সম্পর্কে যে তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো কি আপনি প্রত্যাশা করেন? (হ্যাঁ/না)

– আপনার এই সমস্ত তথ্য যদি আপনার ক্লায়েন্ট, কলিগ, বস অথবা ভবিষ্যত চাকরিদাতারা জানতে পারে তাহলে আপনি কি স্বস্তিবোধ করবেন? (হ্যাঁ/না)

– এই তথ্যগুলো কি আপনার পেশাগত জীবনকে সমর্থন করে? (হ্যাঁ/না)

– যে তথ্যগুলো গুগলে দেখাচ্ছে সেগুলো কি আপনার ক্যারিয়ার গোল বা ভিশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? (হ্যাঁ/না)

 

আপনার অনলাইন প্রেজেন্স আপনার সিভিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অন্যের কাছে তুলে ধরবে। আপনি কাদের আপনার সম্পর্কে বলছেন তার উপর ভিত্তি করে আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড তুলে উঠবে। তবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, গুগল সার্চে আপনার সম্পর্কে যে তথ্যগুলো আসছে সেগুলো সত্য, আপডেটেট। এছাড়া আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড আপনাকে সঠিকভাবে অন্যের কাছে ফুটিয়ে তোলে।

 

টিপস:

নিজের নাম দিয়ে ফ্রি গুগল এলার্ট সেট করুন। এর ফলে আপনার নাম দিয়ে ওয়েবে কিছু আপডেট হলে বা আপনার নামে কিছু আসলে আপনি লিঙ্কসহ একটি মেইল পেয়ে যাবেন।

 

অ্যাকশন ২: অনলাইন প্রেজেন্স স্বচ্ছ রাখুন

 

১. বর্তমানে আপনার ফেসবুক, লিঙ্কডিন, টুইটার, পিন্টারেস্ট, ইত্যাদি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে কি ধরনের প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার করছেন?

২. আপনার প্রোফাইলে কি কোনো ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট, ইমেজ বা ভিডিও ট্যাগ আছে? অথবা কোনো ধরনের মতামত বা কারো পোস্টে সেনসিটিভ কমেন্ট করেছেন কি? অথবা আপনার বায়োগ্রাফিতে কি এমন কোনো ধরনের তথ্য আছে যা আপনার ব্যক্তিগত ইমেজকে খারাপ করে?

৩. আপনার কি কোনো ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগ অ্যাকাউন্ট আছে যেটির বিষয় আপনি ভুলে গেছেন?

৪. আপনি কি কোনো থার্ড পার্টির ওয়েবসাইটে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে? এমন যদি কিছু করে থাকেন তাহলে সেই ওয়েবসাইটের সাথে যোগাযোগ করে সেগুলোকে মুছে দিতে বলুন।

– বর্তমানে ৯২% কোম্পানি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে রিক্রুট করার জন্যে।

– ৪ জনের মধ্যে ৩ জন ম্যানেজার এবং রিক্রুটার লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সোশ্যাল প্রোফাইল চেক করে। প্রার্থী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের উল্লেখ না করলেও ম্যানেজারেরা এটি চেক করে থাকে।

– ৩ জনের মধ্যে ১ জন প্রার্থীকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে।

 

পার্সোনাল ব্র্যান্ড গাইড: টিপস

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়েন করা থেকে বিরত থাকা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে প্রকাশে গোপনীয়তা রক্ষা করা আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনলাইন হলো প্রফেশনাল ও পার্সোনাল পার্সোনালিটি গড়ে তোলার উৎকৃষ্ট জায়গা।

 

আপনি যখন অনলাইনে প্রফেশনালিজম রক্ষা করে নিজের ব্র্যান্ড গড়ে তুলবেন সেটি নিঃসন্দেহে আপনাকে আনন্দ দিবে।

 

আপনি কি জানেন?

 

আপনার একটি পোস্ট, কমেন্ট, টুইট, শেয়ার আপনার ইমেজে যেমন পজেটিভ ইম্প্রেশন তৈরি করতে পারে তেমনি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে নিমিষে ধ্বংস করে দিতে পারে। কারণ বর্তমানে যে কোনো কিছু ভাইরাল হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

কি নোট:

১. আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড হলো প্রফেশনাল রেপুটেশন। যখন আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের দরকার হয় তখন পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং খুবই প্রয়োজন। এছাড়া সুযোগ-সুবিধা নিজের দিকে আকৃষ্ট করা, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কাজের নিরাপত্তা এবং অনলাইনে নিজের প্রভাব বাড়াতে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

২. গুগলে আপনার সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকলে সেটি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং কে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

৩. আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কি পোস্ট করছেন সে সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ে সতর্ক হোন।

 

নিজের পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে সঙ্গায়িত করা:

আপনি যদি নিজের ক্যারিয়ারকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে চান তাহলে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু এজন্য আপনি কি চান সেটিকে আগে সঙ্গায়িত করতে হবে। নিজের চাওয়া বা ক্যারিয়ারের ভিত্তিতে পার্সোনাল ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

 

অ্যাকশন ৩: যা আছে তাই নিয়ে শুরু করুন

– আপনার কি কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল আছে?

– আপনি কি ঠিক করেছেন কোনো সোশ্যাল মিডিয়াকে আপনি পেশাগত কাজে ব্যবহার করবেন, আর কোনটিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন?

– আপনার কি কোনো পার্সোনাল ই-মেইল অ্যাকাউন্ট আছে?

– আপনার ই-মেইল অ্যাকাউন্টের নাম কি প্রফেশনাল?

– আপনি কি আপনার ইন্ডাস্ট্রি নিউজ সম্পর্কে আপ-টু-ডেট নিউজ জানেন?

– আপনি কি কোনো নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগদান করেন?

– আপনি এখন যে ব্যবসা বা পেশায় আছেন সেখানকার বিজনেস কার্ডটি আপনার আছে?

– আপনার কি নিজের ওয়েব সাইট বা ব্লগ আছে?

– আপনি সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ বা ওয়েব সাইটি নিয়মিত কি পোস্ট দেন?

উপরের কোন একটি বিষয় নিয়ে আপনি কি হ্যাঁ বলতে পারেন? যদি হ্যাঁ বলতে পারেন তাহলে ইতিমধ্যে আপনি পার্সোনাল ব্র্যান্ড বিল্ডিং এর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এখন আপনার কাজ হলো, এই কাজগুলোকে সুন্দরভাবে সাজানো এবং আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা।

 

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং গাইড:

আমাদের সকলের ব্র্যান্ডিং এর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। প্রত্যেকে আমরা আমাদের (নিজেকে কোম্পানি হিসাবে বিবেচনা করুন) কোম্পানির সিইও। ব্যবসায় নামতে গেলে সর্বপ্রথম কাজটি হলো “আপনি” নামক ব্র্যান্ডটির হেড বা সিইও হওয়া।

 

আপনার ব্র্যান্ডকে সঙ্গায়িত করুন:

আপনি যখন পার্সোনাল ব্র্যান্ড গড়ে তোলার কাজ করবেন তখন আপনার নিজের ইমেজ গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। একটি নিন্মমানের ব্র্যান্ড একই সঙ্গে অনেক ভ্যালু ডেলিভারির প্রমিজ করে কিন্তু প্রমিজ রক্ষার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন থাকে। এই ধরনের প্রবণতা শুধু ব্যক্তির ইমেজকেই ধ্বংস করে না বরং একই সাথে ক্যারিয়ারের অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয়।

 

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর জন্য যে বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন থাকতে হবে:

ক). আপনি কে?

খ). অন্যজন আপনার সম্পর্কে কি ধারণা করে থাকে?

গ). পেশাগতভাবে আপনি কোন পর্যায়ে যেতে চান?

আপনি যদি এই বিষয়গুলো নির্ধারণ না করে থাকেন তাহলে আপনার হয়ে অন্য মানুষ এগুলো নির্ধারণ করবে। আপনার সম্পর্কে মানুষের নানা ধরনের মন্তব্য হয়তো ইতিমধ্যে শুনে থাকবেন। এখন আপনি এবং আপনার ক্যারিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করার দায়িত্ব নিন।

 

অ্যাকশন ৪: আপনার পার্সোনাল ভ্যালু প্রোপোজিশন গড়ে তুলুন

 

আপনি কে? এখনই উপযুক্ত সময় অন্যদের থেকে আপনার কোন জিনিসটি আলাদা করে চিহ্নিত করে সেটি নির্ধারণ করা। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আপনি পার্সোনাল ভ্যালু প্রোপোজিশন গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন।

১. আপনাকে কোন জিনিসটি ইউনিক/স্বতন্ত্র করে গড়ে তুলবে?

২. কোনো একটি কাজ অন্য সকলের চেয়ে আপনি ভালভাবে করতে পারেন?

৩. কোন বিষয়টির জন্য আপনি সকলের চেয়ে এগিয়ে থাকেন (আপনার পার্সোনাল ভ্যালু)?

৪. কোন শব্দটি দিয়ে আপনার কলিগ, ক্লায়েন্টরা আপনাকে চিহ্নিত করে থাকে? কোন তিনটি শব্দ আপনি নিজেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকেন?

৫. অন্য মানুষের বর্ণনা এবং আপনার বর্ণনার মাঝে কি মিল আছে?

৬. কোন জিনিসটি আপনাকে সকালে বিছানা থেকে উঠতে বাধ্য করে থাকে?

৭. কোন দক্ষতা আপনি সহজে গড়ে তুলতে পারেন যা অন্যরা কল্পনাও করতে পারে না?

৮. আপনার সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি উদাহরণ রেখে যেতে চান?

 

আপনি যখন এই বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করতে পারবেন তখন কাজ করার আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। নিজেকে আদর্শ ব্র্যান্ড হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে পারবেন। উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আপনি নিজের পার্সোনাল মিশন ও ভিশন সেট করতে পারবেন যা সিভি বা অনলাইনেও উল্ল্যেখ করতে পারবেন।

 

# নিজের ব্র্যান্ডকে সঙ্গায়িত করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার প্রয়োজনীয় বিষয়

– আশাবাদী হতে হবে

– নিজের সক্ষমতা তুলে ধরতে হবে

– নিজে কি সেটি বুঝতে হবে

– নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে

– ব্র্যান্ডিংয়ের প্রসেসের সাথে যুক্ত হতে হবে, একবারে পারফেকশনিস্ট হওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে।

 

কি নোট:

– আপনি সচেতন বা অবচেতনভাবে একটি পার্সোনাল ব্র্যান্ড ধারণ করেন।

– প্রাথমিক অবস্থা থেকে ব্র্যান্ড গড়ে তোলা দিয়ে যাত্রা শুরু করুন এবং ধাপে ধাপে অগ্রসর হন। খুঁটিনাটি সব কিছুর উপর গুরুত্ব দিন। আপনার ই-মেইল অ্যাডড্রেস থাকা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

– আপনি যদি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে সঙ্গায়িত না করে থাকেন তাহলে অন্যজন আপনার হয়ে এই কাজটি করে দিবে।

 

টিপস:

সব সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গিয়ে শুধু শুধু সময় অপচয় করবেন না। একটি বা দুটি সোশ্যাল চ্যানেল বেছে নিন যেটি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর সাথে ম্যাচ করে। এমন সোশ্যাল মিডিয়া পছন্দ করুন যেখানে পার্সোনাল ভ্যালু প্রোপোজিশনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে পারেন।

 

আপনার ব্র্যান্ডকে কাজে রূপান্তর করুন:

 

সফল পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং হলো নিজেকে স্বতন্ত্ররূপে গড়ে তোলা এবং অন্য মানুষের মনে নিজের প্রভাব সৃষ্টি করা। এটি একদিক  দিয়ে যেমন পার্সোনাল ব্র্যান্ড স্টেটমেন্ট সেট করা, অন্য দিক দিয়ে নিজের জন্য একটি অবস্থান তৈরি করা। ইমেইল অ্যাডড্রেস থেকে ড্রেস কোড, সিভি থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট সব জায়গায় কাজের ধারাবাহিকতা আপনার ক্যারিয়ারে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে।

নিচে কিছু বিষয় উল্ল্যেখ করা হলো যাতে বাস্তবসম্মতভাবে পার্সোনাল ব্র্র্যান্ডের প্রয়োগ করা যেতে পারে।

১. নিজের পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে ফুটিয়ে তুলতে সিভিকে আপডেট রাখুন:

আপনি আপনার সিভিকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য ভিন্ন কিছু কি চিন্তা করেছেন? আপনি কি সিভিতে নিজেকে সকলের চেয়ে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন যা অনেক মানুষের মধ্যে নিয়োগদাতার চোখে আপনাকে যোগ্য বলে তুলে ধরবে? সিভিতে আপনার সম্পর্কে এটি ভিন্ন ধারনা দেয় এমন ব্র্যান্ড-প্রোপোজিশন যোগ করুন।

২. ইনফোগ্রাফিক সিভি :

আপনার কাজ এবং কাজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে নম্বর ও বিষয়বস্তু (ফ্যাক্ট) আকর্ষণীয়ভাবে ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলুন।

৩. ভিডিও সিভি:

ট্রেডিশনাল সিভিতে যেমন নানা বিষয় উল্লেখ থাকে, সেভাবে না গিয়ে একটু নতুনত্ব নিয়ে আসুন ভিডিও সিভিতে। একে একটি প্রফেশনাল টিজার ট্রেলার হিসেবে বিবেচনা করে খুব সংক্ষেপে বুলেট পয়েন্টগুলো উঠিয়ে আনুন।

৪. সোশ্যাল সিভি:

সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের লিঙ্ক বায়োগ্রাফিতে সংযোজন করে আপনার নিয়োগদাতা বা কলিগদের আপনার সম্পর্কে জানার সুযোগ দিন। যেমন- লিঙ্কডইন, টুইটার, ইত্যাদি।

 

অ্যাকশন-৫ ব্র্যান্ডেড বিজনেস কার্ড তৈরি করুন:

বিজনেস কার্ড পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিকেশন টুলস। আপনি যদি কোন এক্সপার্ট নেটওয়ার্কে কোন কাজের জন্য গিয়ে থাকেন তাহলে আপনার অবশ্যই ব্র্যান্ডেড বিজনেস কার্ড থাকা জরুরি। এই কার্ডই আপনার জন্য নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করতে পারে। আপনি জানেন না আগামীতে আপনি কার সঙ্গে মিলিত হবেন অথবা তারা আপনার জন্য কি সুযোগের প্রস্তাব দিতে পারে।

বিজনেস কার্ডের মাধ্যমে খুব কম খরচে একজন মানুষের মনে আপনি স্থান করে নিতে পারেন যারা এই মিট-আপের পরেও আপনাকে মনে রাখবে।

চেকলিস্ট: বিজনেস কার্ডে কি কি বিষয় অর্ন্তর্ভক্ত করা দরকার

– আপনার নাম এবং ব্যবসায়ের নাম

– আপনার পদবী

– আপনার পার্সোনাল ভ্যালু প্রপোজিশন, অর্থাৎ আপনি আপনার কাস্টমার বা অর্ডিয়েন্সদের কি ভ্যালু অফার করতে চাচ্ছেন এবং তারা কেন সেটি কিনবে বা গ্রহণ করবে। এই বিষয়টিকে আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডের প্রমিজ হিসেবে মূল্যায়ন করুন।

– আপনার সাথে যোগাযোগের তথ্য (ই-মেইল, টেলিফোন নম্বর) এবং যদি থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েব সাইট/ব্লগের লিঙ্ক দিয়ে দিন। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত কনটাক্ট নম্বর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন কারণ এটি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড সৃষ্টিতে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে।

 

নেটওয়ার্কিং হলো এক ধরনের মার্কেটিং। আপনার নিজেকে মার্কেটিং করুন, আপনার স্বাতন্ত্র্যকে মার্কেটিং করুন, যে বিষয়টি নিয়ে আপনি সবার থেকে আলাদা হতে চান সেটি নিয়ে মার্কেটিং করুন।

 

একটি পার্সোনাল ব্লগ বা ওয়েব সাইট থাকা আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড এর জন্য সহায়ক হতে পারে।

১. নিয়মিত কনটেন্ট শেয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিতে আপনাকে এক্সপার্টের আসনে বসাবে এবং আপনি আপনাকে একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতা এবং লিডার বলে অন্যের কাছে পরিচিত করাতে পারবেন।

২. ব্লগ বা ওয়েবসাইট হলো পার্সোনাল ভ্যালু প্রদর্শেনের উপযুক্ত জায়গা। আপনি এখানে দেখাতে পারেন কি আপনাকে অনুপ্রেরণা দেয়, এবং কোন জিনিসটি অন্যেদর চেয়ে আলাদা করেছে।

৩. ব্লগ বা ওয়েব সাইটের মালিক হওয়া আপনাকে একজন প্রযুক্তি প্রেমী বলে উপস্থাপন করবে এবং অনলাইনে আপনার সরব উপস্থিতি আপনার আপনার ইন্ডাস্ট্রিতে সফল হতে সাহায্য করবে।

৪. ব্লগ বা ওয়েব সাইট আপনার সিভিকে বিশ্বাসযোগ্য হতে সাহায্য করবে। ব্লগ বা ওয়েব সাইট থাকার ফলে আপনার আগ্রহ, অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছতা চাকরিদাতা বা ক্লায়েন্টের কাছে তুলে ধরবে।

৫. ব্লগ বা ওয়েব সাইট অন্যের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার খুব ভাল মাধ্যম। আপনি যখন অনলাইন ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিদের কনটেন্ট শেয়ার করবেন বা কমেন্ট করবেন তখন তাদের সাথে আপনার সম্পর্কের উন্নয়ন হবে।

৬. ব্লগ বা ওয়েব সাইট থাকার ফলে কনটেন্ট শেয়ারিং এর মাধ্যমে আপনার ম্যাসেজ অন্যের কাছে দ্রুত পৌছে দিতে পারবেন। লেখার মাধ্যমে কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানো বর্তমান কাজের পরিবেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত হচ্ছে।

* ব্র্যান্ডের সফলতার পেছনে রয়েছে নিজেকে সঙ্গায়িত করা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা, নিজের বিশুদ্ধতা।

৭. আপনার অনলাইন প্রেজেন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।

 

আপনি অনলাইনে যতো কাজ করে থাকেন সে সবকিছু আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ড গড়তে সাহায্য করে থাকে। বিজনেস কার্ড বা ইমেইল অ্যাডড্রেসের মতো যতো আপনি টুইট করেন, পিন করেন, লাইন-শেয়ার-কমেন্ট করেন সব কিছুতে যেন আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডের ছোয়া থাকে। আপনার এই কাজগুলো অন্যের মনে আপনার সম্পর্কে ধারনা তৈরি করে দেয়। যেমন- আপনি কে বা কেমন ধরনের ব্যক্তিত্ব?

 

চেক লিস্ট: আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রেজেন্স

আপনার সোশ্যালি মিডিয়া চ্যানেল কি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডের সঠিক প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। নিচের চেক লিস্টগুলো দেখে নিজের সাথে মিলিয়ে নিন।

– কভার ফটো বা প্রোফাইল পিকচার সঠিকভাবে কি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে তুলে ধরতে পারছে? (না/হ্যাঁ)

– আপনি আপনার ইন্টাস্ট্রি সম্পর্কিত লিঙ্কড-ইন গ্রুপের সাথে কি জড়িত আছেন এবং নিয়মিত এসব গ্রুপে কি কন্ট্রিবিউট করছেন? (না/হ্যাঁ)

– আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন কোন কনটেন্ট শেয়ার করছেন যা আপনাকে থট লিডার বা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টের আসনে বসাতে পারে? (না/হ্যাঁ)

– আপনার প্রোফাইল টি কি যথাযথভাবে সাজানো হয়েছে বা পূরণ করা হয়েছে? (না/হ্যাঁ)

– আপনার লিঙ্কডিন প্রোফাইলের সেটিংস কি আপনাকে খুঁজে পেতে অন্যকে সাহায্য করে? (না/হ্যাঁ)

– আপনার যদি একটি ব্লগ বা ওয়েব সাইট থাকে সেখানে কি আপনার সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক যোগ করেছেন? (না/হ্যাঁ)

– আপনার লিঙ্কডিন প্রোফাইলে কি কোনো ইন্ডাস্ট্রি লিডার বা ইনফ্লুয়েনশিয়াল পারসনের সুপারিশ (রিকমানডেশন) আছে? (না/হ্যাঁ)

– যদি এই ধরনের কোনো সুপারিশ না থাকে তাহলে আপনার বস বা কলিগদের কি আপনার সম্পর্কে সুপারিশ করতে বলেছেন? (না/হ্যাঁ)

– সকলে কি আপনার সোশ্যাল মিডিয় প্রোফাইল দেখতে পায়? (না/হ্যাঁ)

– যদি দেখতে পায় তাহলে যে কনটেন্টগুলো আপনি পাবলিশ করছেন সেগুলো কি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করছে? (না/হ্যাঁ)

– আপনি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাথে কমিউনিকেট করেন তখন আপনার কথা বলার ধরন (টোন) কি আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়? (না/হ্যাঁ)

– টুইটারে অর্ডিয়েন্সের রিচ বাড়াতে আপনি কি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন? (না/হ্যাঁ)

– আপনি কি নিয়মিত ইন্ডাস্ট্রি ইনফ্লুয়েনশিয়াল লিডারদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পোস্টে কমেন্ট ও শেয়ার করেন? (না/হ্যাঁ)

Leave a Comment